Type/to search

দ্বৈত ট্র্যাক অনুসারী মুভিং এভারেজ কৌশল

Common strategy
Created: 2023-10-25 15:14:35
Last modified: 3 years ago
1
Follow
1802
Followers

img

ওভারভিউ

দুই ট্র্যাক ট্রেন্ড ফলোয়িং মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজি একটি সাধারণ মুভিং এভারেজ ক্রসওভার স্ট্র্যাটেজি। এটি ভিন্ন সময়কালের মুভিং এভারেজ গণনা করে বাজারের ট্রেন্ড নির্ধারণ করে এবং মুভিং এভারেজ ক্রসওভারের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সিদ্ধান্ত নেয়। এই স্ট্র্যাটেজিটি সহজ ও কার্যকরী এবং মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদী পজিশন ট্রেডিংয়ের জন্য উপযোগী।

স্ট্র্যাটেজির মূলনীতি

এই স্ট্র্যাটেজিটি মূলত ২০ পিরিয়ড এবং ৫০ পিরিয়ডের এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ (ইএমএ) ব্যবহার করে বাজারের ট্রেন্ড নির্ধারণ করে। নির্দিষ্ট যুক্তি হলো:

১. ২০ পিরিয়ডের ইএমএ এবং ৫০ পিরিয়ডের ইএমএ গণনা করুন।
২. যখন ২০ পিরিয়ডের ইএমএ ৫০ পিরিয়ডের ইএমএকে উপরের দিকে অতিক্রম করে, তখন বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড হিসেবে বিবেচনা করে ক্রয় করা যেতে পারে।
৩. যখন ২০ পিরিয়ডের ইএমএ ৫০ পিরিয়ডের ইএমএকে নিচের দিকে অতিক্রম করে, তখন বাজারকে নিম্নমুখী ট্রেন্ড হিসেবে বিবেচনা করে বিক্রয় করা যেতে পারে।
৪. ক্রয়ের পর যদি ২০ পিরিয়ডের ইএমএ আবার ৫০ পিরিয়ডের ইএমএকে নিচের দিকে অতিক্রম করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয় (স্টপ লস) করতে হবে।
৫. বিক্রয়ের পর যদি ২০ পিরিয়ডের ইএমএ আবার ৫০ পিরিয়ডের ইএমএকে উপরের দিকে অতিক্রম করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করতে হবে, যাতে ক্রয়ের সুযোগ হাতছাড়া না হয়।

এই যুক্তির মাধ্যমে দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজি বাজারের ট্রেন্ড পরিবর্তন অনুসরণ করে এবং গতিশীলভাবে পজিশন সামঞ্জস্য করে বাজারের ট্রেন্ড অনুসরণ করে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ করে।

স্ট্র্যাটেজির সুবিধা বিশ্লেষণ

দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজির নিম্নলিখিত সুবিধা রয়েছে:

১. কার্যকরী সহজ, বাস্তবায়ন সহজ। শুধুমাত্র দুটি মুভিং এভারেজের আকার-সম্পর্ক গণনা ও তুলনা করতে হয়, জটিল পূর্বাভাস বা মডেলিংয়ের প্রয়োজন হয় না।
২. বাজারের ট্রেন্ড অনুসরণ করে, বাজারের বিপরীতে জোর করে ট্রেড করা এড়ায়। মুভিং এভারেজের ট্রেন্ড ফলোয়িং বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে শুধুমাত্র ট্রেন্ড স্পষ্ট হলেই বাজারে প্রবেশ করা হয়।
৩. স্বয়ংক্রিয় স্টপ লস, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ। বাজার হঠাৎ বিপরীতমুখী হলে দ্রুত স্টপ লস করে মূলধন সুরক্ষিত করা যায়।
৪. লোকসান পূরণ, ক্রয়ের সুযোগ নষ্ট হয় না। স্টপ লসের পর বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হলে দ্রুত আবার ক্রয় করে লোকসান পূরণ করা সম্ভব।
৫. প্যারামিটার নমনীয়, প্রযোজ্যতা বেশি। মুভিং এভারেজের প্যারামিটার পরিবর্তনযোগ্য, বিভিন্ন বাজার পরিবেশের জন্য উপযোগী।
৬. মূলধন ব্যবহারের দক্ষতা বেশি। ট্রেন্ড পরিবর্তন অনুযায়ী পজিশন স্যুইচ করে মূলধনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

ঝুঁকি বিশ্লেষণ

দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজির কিছু ঝুঁকিও রয়েছে:

১. ঘন ঘন ট্রেডিং, ট্রেডিং ফি দ্বারা আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। দুই মুভিং এভারেজের ঘন ঘন ক্রসওভারের ফলে অত্যধিক ট্রেডিং হতে পারে।
২. অস্থির বাজারে ভুয়া সংকেত বেশি। রেঞ্জবাউন্ড মার্কেটে মুভিং এভারেজ একাধিক ভুয়া ক্রসওভার তৈরি করতে পারে, যার ফলে লোকসান হতে পারে।
৩. যুক্তিসঙ্গত প্যারামিটার নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। প্যারামিটার ঠিকমতো সেট না করলে স্টপ লসের পরিমাণ বেশি বা কম হতে পারে, যার ফলে ক্ষতি হতে পারে।
৪. অপ্রত্যাশিত ঘটনা মোকাবেলা করা কঠিন। বড় ধরনের ব্ল্যাক সোয়ান ঘটনা ঘটলে টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর দিয়ে মোকাবেলা করা কঠিন, বড় ক্ষতি হতে পারে।
৫. বাজারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মিস করা। দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স পয়েন্ট নির্ধারণ করতে পারে না।

উপরোক্ত ঝুঁকিগুলি মোকাবেলায় প্যারামিটার অপ্টিমাইজেশন, অন্যান্য ইন্ডিকেটরের সাথে ফিল্টার যোগ করা, স্টপ লস ও টেক প্রফিট সেট করা এবং মানি ম্যানেজমেন্ট ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

অপ্টিমাইজেশনের দিকনির্দেশনা

দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজিকে নিম্নলিখিত দিক থেকে অপ্টিমাইজ করা যেতে পারে:

১. মুভিং এভারেজের প্যারামিটার অপ্টিমাইজ করে বিভিন্ন বাজার পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়া। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী মুভিং এভারেজের বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে বর্তমান বাজারের জন্য উপযুক্ত প্যারামিটারের সেট খুঁজে বের করা।
২. ভলিউম ইন্ডিকেটর যুক্ত করে সংকেত ফিল্টার করা। উদাহরণস্বরূপ, ব্রেকআউটের সময় ভলিউম বৃদ্ধি হওয়া শর্ত যোগ করা, যাতে ভলিউমহীন ব্রেকআউট এড়ানো যায়।
৩. অন্যান্য ইন্ডিকেটরের সাথে সংকেত যাচাই করা। যেমন, MACD, Stochastic ইত্যাদি ইন্ডিকেটর যখন মুভিং এভারেজের দিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তখন এন্ট্রি সিগন্যালের নির্ভরযোগ্যতা বেশি হয়।
৪. গতিশীলভাবে স্টপ লসের পরিসীমা সামঞ্জস্য করা। অস্থিরতা বাড়লে স্টপ লসের পরিসীমা কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে অকারণে স্টপ লস ট্রিগার হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
৫. মানি ম্যানেজমেন্ট কৌশল অপ্টিমাইজ করা। যেমন, ঝুঁকি মূল্যায়নের পর যুক্তিসঙ্গত পজিশন সাইজ নির্ধারণ করা, যাতে একক ট্রেডে অতিরিক্ত লোকসান না হয়।
৬. ট্রেন্ড মার্কেট ও রেঞ্জ মার্কেটের জন্য ভিন্ন এন্ট্রি লজিক ব্যবহার করা। রেঞ্জ মার্কেটে এন্ট্রির শর্ত কঠোর করে আরও নির্ভরযোগ্য এন্ট্রি সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা।

সারসংক্ষেপ

দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজিটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ও কার্যকরী ট্রেন্ড ফলোয়িং স্ট্র্যাটেজি। এর সুবিধার মধ্যে রয়েছে সহজ কার্যপ্রণালী, ট্রেন্ড অনুসরণ, স্বয়ংক্রিয় স্টপ লস, লোকসান পূরণ ইত্যাদি, যা মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদী পজিশন ট্রেডিংয়ের জন্য খুবই উপযোগী। আমাদের এর ঘন ঘন ট্রেডিং, ভুয়া সংকেত সৃষ্টির মতো সমস্যাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে এবং প্যারামিটার অপ্টিমাইজেশন, ফিল্টার যোগ করা, মানি ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নতি করে স্ট্র্যাটেজিটিকে আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করা যেতে পারে। যদি আপনি ট্রেন্ড ট্রেডিংয়ের ওপর ভিত্তি করে বাজার অনুসরণ করতে চান, তাহলে দুই ট্র্যাক মুভিং এভারেজ স্ট্র্যাটেজিটি একটি ভালো পছন্দ।

Source
Pine
/*backtest
start: 2023-09-01 00:00:00
end: 2023-09-30 23:59:59
period: 2h
basePeriod: 15m
exchanges: [{"eid":"Futures_Binance","currency":"BTC_USDT"}]
*/

//@version =4
strategy("Moving Average Cross", overlay=true)

ema20 =  ema(close, 20)
Comment
All comments (0)
No data
No data
  • 1
Forums
PINE Language
Get the app
iPhone Download
© 2015 - ∞ INVENTOR PTE LTD (SG)