শেষ দরে কেনা ও শুরুর দরে বিক্রির কৌশল
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলের মূল ধারণা হলো ট্রেডিং দিনের শেষে সম্পদ ক্রয় করা এবং পরবর্তী দিনের শুরুতে তা বিক্রি করা, যাতে শুরুতে সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি থেকে লাভ করা যায়।
কৌশলের নীতি
এই কৌশলটি মূলত দুটি অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি:
- ইন্ট্রাডে ট্রেডাররা সাধারণত বাজার শুরুতে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে, যার ফলে শুরুর দিকে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়।
- দিনের শেষে সম্পদের দাম তুলনামূলকভাবে তার প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত করে।
বিশেষভাবে বলতে গেলে, এই কৌশলটি প্রতিদিন বাজার শেষে (২০:০০) নির্ধারণ করে যে বর্তমান দিনের ক্লোজিং মূল্য ২০০ দিনের সরল চলমান গড়ের উপরে কিনা। যদি তা উপরে থাকে, তাহলে ক্লোজিং-এ লং পজিশন নেওয়া হয়; যদি ক্লোজিং মূল্য সেই গড়ের নিচে থাকে, তাহলে ক্লোজিং-এ শর্ট পজিশন নেওয়া হয়।
পরবর্তী দিনের শুরুতে (৯:৩০), যদি আগের দিন লং পজিশন ধরে রাখা হয়, তাহলে শুরুতে পজিশন বন্ধ করা হয়; যদি শর্ট পজিশন ধরে রাখা হয়, তাহলেও শুরুতে পজিশন বন্ধ করা হয়।
কম দামে ক্লোজিং-এ কেনা এবং বেশি দামে শুরুতে বিক্রি করার মাধ্যমে শুরুতে শেয়ারের দাম বৃদ্ধির সুবিধা নিয়ে লাভ অর্জন করা হয়।
সুবিধা বিশ্লেষণ
এই কৌশলের প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
- ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের অভ্যাসগত চিন্তাধারা, অর্থাৎ শুরুতে শেয়ারের দাম বাড়ার বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে শুরুতে সম্পদ বিক্রি করে লাভ করা হয়।
- ২০০ দিনের চলমান গড় ব্যবহার করে মূল্যের প্রবণতা নির্ধারণ করা যায়, যা বড় প্রবণতা ধরে কাজ করতে সাহায্য করে।
- অপারেশনের ফ্রিকোয়েন্সি কম, প্রতিদিন কেবল শুরু এবং শেষে দুটি সময়ে সিদ্ধান্ত ও ট্রেড করতে হয়, যা ট্রেডিং খরচ কমায়।
- ব্যাকটেস্টিং ডেটা যথেষ্ট, ঐতিহাসিক তথ্য ব্যবহার করে নিয়মের প্যারামিটারের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যায়, যা আস্থা বাড়ায়।
- প্রোগ্রামযুক্ত ট্রেডিং সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করে, মানবিক আবেগের প্রভাব থেকে ট্রেডিং সিদ্ধান্ত রক্ষা করে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণ
এই কৌশলে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে:
- শুরুতে মূল্য বিপরীত দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে; যদি শুরুতে মূল্য ব্যাপকভাবে বিপরীত দিকে ওঠানামা করে, তাহলে ক্ষতি হতে পারে।
- ক্লোজিং মূল্য কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; যদি ক্লোজিং মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো বা কমানো হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে।
- সম্পদের ট্রেডিং বন্ধ থাকলে শুরুতে পজিশন বন্ধ করা সম্ভব না হয়ে ক্ষতি হতে পারে।
- উচ্চ ট্রেডিং খরচযুক্ত সম্পদ এই অপেক্ষাকৃত বেশি ফ্রিকোয়েন্সির কৌশলের জন্য উপযুক্ত নয়।
- প্যারামিটারের অযৌক্তিক নির্ধারণের ফলে ট্রেডিং ফ্রিকোয়েন্সি বেশি বা ফলাফল খারাপ হতে পারে।
ঝুঁকি মোকাবিলার উপায়:
- স্টপ-লস পয়েন্ট নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভলিউম বা অ্যাডজাস্টেড মূল্যের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্লোজিং মূল্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা।
- প্রথমে তরলতা বেশি এমন সম্পদ নির্বাচন করা।
- চলমান গড়ের প্যারামিটার এবং পজিশন খোলা/বন্ধের সময় পরিবর্তন করে কৌশলের কার্যকারিতা বাড়ানো।
অপ্টিমাইজেশনের দিকনির্দেশনা
এই কৌশলটি নিম্নলিখিত উপায়ে অপ্টিমাইজ করা যেতে পারে:
- শুরুতে মূল্য বিপরীত হলে স্টপ-লস বা টেক-প্রফিট নির্ধারণ করে আরও ক্ষতি এড়ানো।
- অন্যান্য সূচক বা মডেল ব্যবহার করে শেয়ারের মূল্যের যুক্তিসঙ্গত পরিসীমা নির্ধারণ করে ক্ষতি এড়ানো।
- সম্পদের তরলতার ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রথমে তরলতা বেশি এমন সম্পদ নির্বাচন করা।
- বিভিন্ন চলমান গড় প্যারামিটার পরীক্ষা করে সর্বোত্তম প্যারামিটার সংমিশ্রণ খুঁজে বের করা।
- পজিশন খোলা ও বন্ধের সময় অপ্টিমাইজ করা, সময় আগে বা পরে নেওয়ার কথা ভাবা।
- বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের প্রেক্ষাপটে ক্লোজিং মূল্যের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করা।
- ট্রেডিং খরচ বিবেচনায় নিয়ে কম খরচের সম্পদ নির্বাচন করা।
- মাল্টি-ফ্যাক্টর মডেল একীভূত করে বিভিন্ন প্রভাবশালী কারণ বিবেচনা করা।
উপসংহার
এই কৌশলটি প্রতিদিন কম দামে ক্লোজিং-এ কেনা এবং পরবর্তী দিন শুরুতে বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করে, যা শুরুতে মূল্য বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে। এই কৌশলের কিছু সুবিধা আছে তবে কিছু ঝুঁকিও লক্ষ্য রাখতে হবে। প্যারামিটার নির্ধারণ, স্টপ-লস পদ্ধতি, সম্পদ নির্বাচন ইত্যাদি অব্যাহতভাবে অপ্টিমাইজ করে ভালো কৌশল ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সামগ্রিকভাবে, এই কৌশলটি ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের জন্য একটি সহজ ও কার্যকর পজিশন-ক্লোজিং কৌশল ধারণা প্রদান করে।
/*backtest
start: 2023-10-10 00:00:00
end: 2023-11-09 00:00:00
period: 1h
basePeriod: 15m
exchanges: [{"eid":"Futures_Binance","currency":"BTC_USDT"}]
*/
// This source code is subject to the terms of the Mozilla Public License 2.0 at https://mozilla.org/MPL/2.0/
// © Youngmoneyinvestments
//@version=5- 1

