মোমেন্টাম ট্রেডিং কৌশলের উপর ভিত্তি করে
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
এই কৌশলটি স্টকের গতি সূচক এবং লেনদেনের আয়তন সূচকের ভিত্তিতে ক্রয় ও বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। যখন স্টকের দাম বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হয় এবং লেনদেনের আয়তন হঠাৎ বেড়ে যায়, তখন ক্রয় করা হয়; যখন স্টকের দাম হ্রাসের গতি ত্বরান্বিত হয় এবং লেনদেনের আয়তন হঠাৎ বেড়ে যায়, তখন বিক্রয় করা হয়। এই কৌশলটি বাজারের সম্মিলিত আচরণের মাধ্যমে সৃষ্ট স্বল্পমেয়াদী দামের গতি ধরে।
কৌশলের নীতি
স্টকের দাম পরিবর্তনের প্রবণতার শক্তি এবং সময়কাল গতি নির্ধারণ করে। এই কৌশলটি আগের দিনের তুলনায় স্টকের দামের পরিবর্তনের পরিমাণ গণনা করে দামের গতি নির্ণয় করে। যখন দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ে, তখন গতি ধনাত্মক হয়; যখন দাম ধারাবাহিকভাবে কমে, তখন গতি ঋণাত্মক হয়। এই কৌশলটি একই সাথে লেনদেনের আয়তন সূচকও ব্যবহার করে। শুধুমাত্র যখন লেনদেনের আয়তন সাম্প্রতিক ২০ দিনের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয় (থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করে), তখনই ক্রয় ও বিক্রয়ের সংকেত জারি করা হয়।
নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ক্রয়ের শর্ত হলো গতি সূচকটি ০-এর উপরে উঠে আসা এবং লেনদেনের আয়তন ২০ দিনের গড় লেনদেনের আয়তনের ২ গুণের বেশি হওয়া; বিক্রয়ের শর্ত হলো গতি সূচকটি ০-এর নিচে নামা এবং লেনদেনের আয়তন ২০ দিনের গড় লেনদেনের আয়তনের ২ গুণের বেশি হওয়া। ক্রয়ের পর টেক-প্রফিট নির্ধারণ করা হয় ক্রয় মূল্যের ০.৮ গুণ এবং স্টপ-লস নির্ধারণ করা হয় ক্রয় মূল্যের ০.৫ গুণ; বিক্রয়ের পর নির্ধারিত টেক-প্রফিট এবং স্টপ-লস এর বিপরীত।
কৌশলের সুবিধা
এই কৌশলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি বাজারের স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা এবং সম্মিলিত আচরণ ধরে ফেলে। যখন স্টকের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বা কমতে থাকে, তখন অনেক খুচরা বিনিয়োগকারী এবং প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী দামের গতি অনুসরণ করে লেনদেন করে। এটি একটি স্ব-শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদী দামের প্রবণতা তৈরি করে। এই কৌশলটি বাজারের এই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ আয় উৎপন্ন করে। সাধারণ প্যাসিভ বিনিয়োগ কৌশলের তুলনায় যা কেবল বাজার সূচক অনুসরণ করে, এই কৌশলের প্রত্যাশিত অতিরিক্ত আয়ের হার বেশি।
কৌশলের ঝুঁকি
প্রথমত, স্টকের দামের স্বল্পমেয়াদী ওঠানামা সম্পূর্ণরূপে পূর্বাভাস বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে দামের তীব্র বিপরীতমুখী পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে, তখন স্টপ-লস ব্যবস্থা ক্ষতি সম্পূর্ণভাবে এড়াতে পারে না। দ্বিতীয়ত, লেনদেনের আয়তনের তথ্যের মান অসম। কিছু স্টকের লেনদেনের আয়তন কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা লেনদেনের সংকেতকে বিকৃত করতে পারে। তৃতীয়ত, শুধুমাত্র দাম এবং আয়তনের সহজ বিচারের মাধ্যমে বাজারের স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা সঠিকভাবে ধরা যায় না। যখন বাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে, তখন কৌশলের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়।
কৌশলের উন্নতির দিকনির্দেশনা
কৌশলের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য আরও বেশি তথ্যের উৎস অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইত্যাদি ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম থেকে সংশ্লিষ্ট স্টক নিয়ে আলোচনার পরিমাণ আনা যেতে পারে। যখন কোনো স্টক নিয়ে আলোচনার পরিমাণ স্পষ্টভাবে বাড়ে, তখন এটি ভবিষ্যতে দামের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি কৌশলের সহায়ক ক্রয় ও বিক্রয় সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়াও, স্টকের মৌলিক সূচক যেমন পি/ই রেশিও, পি/বি রেশিও ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি দামের পরিবর্তনের স্থায়িত্ব আরও যাচাই করতে এবং ভুল লেনদেনের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে।
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি স্টকের দামের গতি সূচক এবং লেনদেনের আয়তন সূচকের সম্মিলিত পরিবর্তন ধরে বাজারের স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা এবং সম্মিলিত আচরণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। বড় ডেটা এবং আচরণগত ফাইন্যান্স নীতির উপর ভিত্তি করে এই পরিমাণগত বিনিয়োগ কৌশলটির প্রচলিত বিনিয়োগ কৌশলের তুলনায় উচ্চতর প্রত্যাশিত আয় রয়েছে। তবে একই সাথে ঝুঁকিগুলি সম্পূর্ণরূপে বুঝতে এবং প্রতিরোধ করতে হবে, এবং কৌশলের ইনপুট প্যারামিটারগুলি ক্রমাগত উন্নত করে লেনদেনের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে।
- 1

