দ্বৈত চলমান গড় গোল্ডেন ক্রস কৌশল
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি ডবল মুভিং এভারেজের গোল্ডেন ক্রস নীতি ব্যবহার করে, আরএসআই সূচকের সাথে মিলিয়ে ক্রয়-বিক্রয় পয়েন্ট নির্ধারণ করে। কৌশলটি প্রধানত ২৬-পিরিয়ড EMA এবং ১২-পিরিয়ড EMA-এর ক্রস এবং ১০০-পিরিয়ড SMA ও ২০০-পিরিয়ড SMA-এর ক্রস বিশ্লেষণ করে এবং ক্রস ঘটার সময় আরএসআই সূচক ব্যবহার করে ট্রেডিং সংকেত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কৌশলের মূলনীতি
কৌশলটি মূলত ডবল মুভিং এভারেজের ক্রস নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি। ডবল মুভিং এভারেজে, ২৬-পিরিয়ড EMA স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা এবং ১২-পিরিয়ড EMA আরও স্বল্পমেয়াদী মূল্য ওঠানামা নির্দেশ করে। যখন স্বল্পমেয়াদী EMA দীর্ঘমেয়াদী EMA-কে উপরের দিকে ভেদ করে, তখন এটি বোঝায় যে মূল্য নিম্নমুখী থেকে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা একটি লং (ক্রয়) সংকেত হিসেবে গণ্য হয়। বিপরীতভাবে, যখন স্বল্পমেয়াদী EMA দীর্ঘমেয়াদী EMA-কে নিচের দিকে ভেদ করে, তখন এটি বোঝায় যে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থেকে নিম্নমুখী হয়েছে, যা একটি শর্ট (বিক্রয়) সংকেত। এই কৌশলে ১০০-পিরিয়ড SMA এবং ২০০-পিরিয়ড SMA-এর বিশ্লেষণ যুক্ত করা হয়েছে, যা যথাক্রমে মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা প্রকাশ করে এবং এদের ক্রসও মূল্যের দিক পরিবর্তন নির্ধারণে ব্যবহার করা যায়।
EMA ও SMA-এর ক্রস বিশ্লেষণের পাশাপাশি, কৌশলটি আরএসআই সূচক ব্যবহার করে ট্রেডিং সংকেত প্রদান করে। আরএসআই নির্ধারণ করে যে মূল্য অতিরিক্ত কেনা (ওভারবট) নাকি অতিরিক্ত বিক্রি (ওভারসোল্ড) অবস্থায় আছে। আরএসআই ৭০-এর উপরে থাকলে এটি অতিরিক্ত কেনা এবং ৩০-এর নিচে থাকলে অতিরিক্ত বিক্রি সংকেত দেয়। তাই, কৌশলটি EMA বা SMA-তে ক্রস ঘটার সময় আরএসআই সূচকও পরীক্ষা করে, যাতে মূল্যের অতিরিক্ত কেনা বা বিক্রি অবস্থায় ভুল ট্রেডিং সংকেত এড়ানো যায়।
কৌশলের সুবিধা
-
ডাবল EMA ব্যবহার করে স্বল্পমেয়াদী মূল্যের গতিবিধি এবং ডাবল SMA ব্যবহার করে মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী মূল্যের গতিবিধি চিহ্নিত করা যায়, যা কার্যকরভাবে মূল্যের টার্নিং পয়েন্ট শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
-
আরএসআই সূচক যুক্ত করার ফলে অতিরিক্ত কেনা বা বিক্রি অবস্থায় ভুল ট্রেডিং সংকেত দেওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
-
EMA ও SMA-এর প্যারামিটার পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়কাল এবং বিভিন্ন ট্রেডিং পণ্যের সাথে খাপ খাওয়ানো যায়।
-
কৌশলটির নীতি সহজ ও স্পষ্ট, সহজেই বোঝা ও অপ্টিমাইজ করা যায়।
কৌশলের ঝুঁকি
-
ডবল মুভিং এভারেজের একটি অন্তর্নিহিত পিছিয়ে পড়া (ল্যাগ) রয়েছে, যা মূল্যের টার্নিং পয়েন্ট আগে থেকে নির্ধারণ করতে পারে না।
-
যদি EMA ও SMA-এর প্যারামিটার সঠিকভাবে নির্ধারণ না করা হয়, তাহলে প্রচুর ভুল সংকেত তৈরি হতে পারে।
-
আরএসআই সূচকও কখনও কখনও অকার্যকর হতে পারে এবং মূল্যের অতিরিক্ত কেনা বা বিক্রি অবস্থা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারে না।
-
ট্রেডিং পণ্য ভিন্ন হলে প্যারামিটার পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়; কৌশলটি সর্বজনীন নয়।
ঝুঁকি সমাধানের উপায়
-
মূল্যের গতিবিধি ও সম্ভাব্য টার্নিং পয়েন্ট নির্ধারণের জন্য অন্যান্য অগ্রণী সূচকের সাথে একত্রিত করা।
-
প্যারামিটারের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ জয়ের হার দেয় এমন প্যারামিটার কম্বিনেশন নির্বাচন করা।
-
আরএসআই-এর অকার্যকরতা এড়াতে কেডি, বলিঞ্জার ব্যান্ডের মতো অন্যান্য সূচক যুক্ত করা।
-
বিভিন্ন ট্রেডিং পণ্যের জন্য আলাদাভাবে প্যারামিটার পরীক্ষা করে প্যারামিটার কম্বিনেশন টেমপ্লেট সংরক্ষণ করা।
কৌশল অপ্টিমাইজেশনের দিকনির্দেশনা
-
বিভিন্ন EMA ও SMA পিরিয়ড প্যারামিটারের কম্বিনেশন পরীক্ষা করে সর্বোত্তম প্যারামিটার খুঁজে বের করা।
-
অন্যান্য সূচক যুক্ত করে সূচক কম্বিনেশন কৌশল তৈরি করা। সাধারণত কেডি, MACD ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
-
স্টপ-লস ও টেক-প্রফিট কৌশল যুক্ত করে যুক্তিসঙ্গত অনুপাত নির্ধারণ করা।
-
এন্ট্রি টাইমিং অপ্টিমাইজ করা, যাতে মূল্যের অত্যধিক অস্থিরতার সময় এন্ট্রি এড়ানো যায়। মূল্য অস্থিরতার থ্রেশহোল্ড নির্ধারণ করা যেতে পারে।
-
ঊর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী বাজার আলাদা করে ভিন্ন ট্রেডিং সংকেত শর্ত নির্ধারণ করা।
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি মূলত ডবল মুভিং এভারেজের ক্রস নীতি ব্যবহার করে ট্রেডিং সংকেত প্রদান করে, যা সহজ, ব্যবহারিক এবং সহজেই অপ্টিমাইজ করা যায়। তবে এতে কিছু পিছিয়ে পড়ার সমস্যা থাকে, যা মূল্যের টার্নিং পয়েন্ট নির্ধারণ করতে পারে না এবং নির্দিষ্ট বাজারে অকার্যকর হতে পারে। প্যারামিটার অপ্টিমাইজেশন ও সূচক কম্বিনেশনের মাধ্যমে কৌশলটির স্থিতিশীলতা ও জয়ের হার বাড়ানো সম্ভব। সামগ্রিকভাবে, কৌশলটি মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা ট্রেডিংয়ের জন্য উপযুক্ত এবং অন্যান্য কৌশলের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এর কিছু ব্যবহারিক মূল্য আছে।
- 1

