ATR এবং CCI ভিত্তিক ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশল
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি গড় প্রকৃত পরিসীমা সূচক (ATR) এবং পণ্য চ্যানেল সূচক (CCI) একত্রিত করে মূল্যের ট্রেন্ড শনাক্ত করে এবং অতিরিক্ত কেনা/অতিরিক্ত বিক্রি অঞ্চলকে প্রবেশ ও প্রস্থান সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে। ATR চ্যানেলের উপরের ও নিচের রেল গণনার জন্য ব্যবহার করা হয়, আর CCI ট্রেন্ডের দিক নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। যখন CCI অতিরিক্ত কেনা অঞ্চল থেকে নীচে ভেঙে যায় তখন শর্ট (বিক্রি) করা হয়, এবং যখন অতিরিক্ত বিক্রি অঞ্চল থেকে উপরে ভেঙে যায় তখন লং (কেনা) করা হয়, ফলে ট্রেন্ড অনুসরণ করা সম্ভব হয়।
কৌশল নীতি
১. ATR গণনা করা হয়, এখানে ২-পিরিয়ডের ATR নির্বাচন করা হয়েছে।
২. CCI মান গণনা করা হয়, এখানে ১০-পিরিয়ড নির্বাচন করা হয়েছে।
৩. বর্তমান ক্যান্ডেলের CCI মান অনুযায়ী ট্রেন্ডের দিক নির্ণয় করা হয়:
- CCI >= 0, উপরের দিকের ট্রেন্ড হিসেবে সংজ্ঞায়িত।
- CCI < 0, নিচের দিকের ট্রেন্ড হিসেবে সংজ্ঞায়িত।
৪. উপরের রেল এবং নিচের রেল গণনা করা হয়:
- উপরের রেল = সর্বোচ্চ মূল্য + ATR * গুণক (Multiplier)
- নিচের রেল = সর্বনিম্ন মূল্য - ATR * গুণক
৫. বিভিন্ন ট্রেন্ডের দিকে উপরের ও নিচের রেল সংরক্ষণ ও আপডেট করা হয়:
- যখন CCI >= 0, যদি উপরের রেল < আগের ক্যান্ডেলের উপরের রেল হয়, তবে পুনরায় নির্ধারণ করা হয়; যখন CCI < 0, যদি নিচের রেল > আগের ক্যান্ডেলের নিচের রেল হয়, তবে পুনরায় নির্ধারণ করা হয়।
- এতে করে চ্যানেলটি মূল্যের বিপরীত দিকে যাওয়া এড়ানো যায়।
৬. CCI মান অনুযায়ী উপরের রেল বা নিচের রেলে প্রবেশ সংকেত তৈরি হয়।
৭. CCI মান ০ অতিক্রম করলে প্রস্থান সংকেত তৈরি হয়।
৮. লাভ বুকিং ও স্টপ লসের জন্য প্রস্থান নির্ধারণ করা হয়।
কৌশলের সুবিধা
এই কৌশলটি ট্রেন্ড নির্ণয় এবং চ্যানেল ব্রেকআউটকে একত্রিত করে, যা কার্যকরভাবে ট্রেন্ড অনুসরণ করতে পারে।
১. CCI ব্যবহার করে মূল্যের ট্রেন্ডের দিক দ্রুত নির্ণয় করা যায়।
২. ATR চ্যানেল স্টপ লস ও টার্গেট নির্ধারণ করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. মূল্য বিপরীত হলে উপরের ও নিচের রেল দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারে, ফলে আগের ট্রেন্ডের চ্যানেলে আটকা পড়া এড়ানো যায়।
৪. CCI-এর ০ অতিক্রম করাকে প্রস্থান সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রেন্ড অনুসরণ করা যায় এবং বিপরীত দিকের ক্ষতি এড়ানো যায়।
কৌশলের ঝুঁকি ও অপ্টিমাইজেশন
১. CCI এবং ATR-এর প্যারামিটার সেটিং অপ্টিমাইজ করা প্রয়োজন; বিভিন্ন সময়কাল ও প্যারামিটারে ফলাফল যথেষ্ট ভিন্ন হতে পারে।
২. চ্যানেল সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা এড়ানো গেলেও তীব্র বিপরীতমুখী পরিবর্তনে পর্যাপ্ত লাভ না হওয়া বা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. স্টপ লসের পয়েন্ট অপ্টিমাইজ করা প্রয়োজন, যাতে অতি ঘন ঘন স্টপ লস এড়ানো যায়।
৪. অন্যান্য সূচকের সাথে যুক্ত করে প্রবেশ সংকেত ফিল্টার করা এবং প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা যায়।
৫. উচ্চতর সময়কালের ট্রেন্ড সূচকের সাথে সংযুক্ত করে বিপরীত দিকের ট্রেডিং এড়ানো যায়।
উপসংহার
সামগ্রিকভাবে এই কৌশলটি একটি সহজ ও কার্যকর ট্রেন্ড অনুসরণকারী কৌশল। এর সুবিধা হলো চিন্তার স্বচ্ছতা, সহজ বাস্তবায়ন ও দ্রুত ট্রেন্ডের সুযোগ গ্রহণ। তবে এর প্যারামিটার সেটিং, স্টপ লসের ব্যাপ্তি ইত্যাদি বাজারের অবস্থান অনুযায়ী অপ্টিমাইজ করা প্রয়োজন। অন্যান্য সূচকের সাথে যুক্ত করে কৌশলের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করা যায়। সামগ্রিকভাবে, এই কৌশলটি ট্রেন্ড অনুসরণকারী শুরুর কৌশল হিসেবে ভালো এবং শেখার ও ব্যবহারের যোগ্য।
- 1
