MA টার্নিং পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে দীর্ঘ-সংক্ষিপ্ত কৌশল
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি চলমান গড়ের টার্নিং পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে বাজারের প্রবণতা নির্ধারণ করে। MA-র উপরের দিকে টার্নিং পয়েন্টে লং (ক্রয়) এবং MA-র নিচের দিকে টার্নিং পয়েন্টে শর্ট (বিক্রয়) করে। এটি একটি সাধারণ ট্রেন্ড-ফলোয়িং কৌশল।
কৌশলের নীতি
কৌশলটি price=security(tickerid, period, close) ব্যবহার করে ক্লোজিং প্রাইসকে বিশ্লেষণের জন্য মূল্য হিসাবে নেয়। তারপর input এর মাধ্যমে SMA বা EMA গড় নির্বাচন করে, যার দৈর্ঘ্য ma1, এবং প্রথম গড় রেখা price1 পাওয়া যায়। তারপর roc1 কে price1 এর একদিনের পরিবর্তনের হার হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। থ্রেশহোল্ড trendStrength1 এর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় যে গড় রেখাটি স্পষ্টভাবে উপরে বা নিচে যাচ্ছে কিনা। যখন roc1 trendStrength1-এর চেয়ে বেশি হয়, তখন ma1up কে true ধরা হয়, অর্থাৎ গড় রেখা উপরে উঠছে; যখন roc1 নেতিবাচক trendStrength1-এর চেয়ে কম হয়, তখন ma1down কে true ধরা হয়, অর্থাৎ গড় রেখা নিচে নামছে। গড় রেখা উপরে উঠলে, যদি আগের দিনটি নিচে ছিল, তাহলে লং সিগন্যাল দেওয়া হয়; গড় রেখা নিচে নামলে, যদি আগের দিনটি উপরে ছিল, তাহলে শর্ট সিগন্যাল দেওয়া হয়।
এইভাবে, কৌশলটি চলমান গড়ের টার্নিং পয়েন্ট ব্যবহার করে শেয়ার দামের প্রবণতার পরিবর্তন ধরে, যা একটি সাধারণ ট্রেন্ড-ফলোয়িং কৌশল।
সুবিধা বিশ্লেষণ
এই কৌশলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি চলমান গড়ের টার্নিং পয়েন্ট ব্যবহার করে প্রবণতা নির্ধারণ করে, যা কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিংয়ে একটি পরিণত এবং নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ পদ্ধতি। নির্দিষ্ট সুবিধাগুলি হল:
-
চলমান গড় ব্যবহার করে শব্দ ফিল্টার করা এবং প্রবণতার টার্নিং পয়েন্ট নির্ভুলভাবে ধরা। চলমান গড় দামকে মসৃণ করে, কিছু শব্দ ফিল্টার করে, ফলে প্রবণতার পরিবর্তন শনাক্ত করা আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য হয়।
-
পরিবর্তনের হার সূচকের সাথে টার্নিং পয়েন্টের শক্তি নির্ধারণ করে মিথ্যা ব্রেকআউট এড়ানো। কৌশলটি শুধু টার্নিং পয়েন্ট সনাক্ত করে না, বরং পরিবর্তনের হারের একটি থ্রেশহোল্ডও সেট করে, যা চলমান গড়ে মিথ্যা ব্রেকআউটের কারণে অপ্রয়োজনীয় ট্রেডিং এড়ায়।
-
সহজ প্যারামিটার সেটিং, সহজে বোঝা এবং ব্যাকটেস্ট অপটিমাইজ করা যায়। কৌশলটিতে শুধুমাত্র একটি চলমান গড় এবং কয়েকটি প্যারামিটার আছে, সেটিং এবং অপটিমাইজেশন তুলনামূলকভাবে সহজ, যা ব্যবহারকারীদের বোঝা এবং আয়ত্ত করা সহজ করে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণ
এই কৌশলের প্রধান ঝুঁকিগুলি হল:
-
ট্রেন্ড-ফলোয়িং কৌশল, শীর্ষ ও নিম্ন পয়েন্ট পূর্বাভাস করতে পারে না। কৌশলটি ট্রেন্ড-ফলোয়িং টাইপের, তাই এটি শুধুমাত্র প্রবণতার পিছনে চলতে পারে, বাজারের শীর্ষ ও নিম্ন পয়েন্ট পূর্বাভাস করতে পারে না, ফলে তাৎক্ষণিক বিপরীতমুখী সুযোগগুলি হাতছাড়া হতে পারে।
-
চলমান গড়ের বিলম্ব সমস্যা। চলমান গড় দামের গতিবিধি প্রতিফলিত করতে কিছুটা পিছিয়ে থাকে, যা প্রবণতার পরিবর্তন সনাক্তকরণের সময়োপযোগীতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
-
প্রাথমিক প্যারামিটার অপটিমাইজেশন না হলে সরাসরি ফলাফল প্রভাবিত হয়। কৌশলের প্যারামিটার সেটিং যেমন গড়ের সময়কাল, পরিবর্তনের হারের থ্রেশহোল্ড, সরাসরি কৌশলের মুনাফা ও ড্রডাউনকে প্রভাবিত করে, তাই সতর্কতার সাথে পরীক্ষা ও অপটিমাইজ করা প্রয়োজন।
সমাধানের পদ্ধতি হল:
-
বড় মাত্রার ভালুকের বাজার শীর্ষ এবং ষাঁড়ের বাজার নিম্ন পূর্বাভাসের জন্য অন্যান্য সূচকের সাথে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা।
-
SMA-এর পরিবর্তে EMA-এর মতো দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল গড় পরীক্ষা করা।
-
সেরা প্যারামিটার সেটিং খুঁজতে একাধিক অপটিমাইজেশন কম্বিনেশন সুপারিশ করা।
অপটিমাইজেশন দিকনির্দেশনা
কৌশলটি নিম্নলিখিত দিক থেকে আরও অপটিমাইজ করা যেতে পারে:
-
দ্বিতীয় চলমান গড় যোগ করে গোল্ডেন ক্রস/ডেথ ক্রস কৌশল তৈরি করা। এটি ডুয়াল গড়ের মধ্যে সম্পর্ক ব্যবহার করে প্রবণতা নির্ধারণ এবং শব্দ ফিল্টার করতে সাহায্য করে।
-
ভলিউম বিশ্লেষণ যুক্ত করা। গড় টার্নিং পয়েন্টে ভলিউমের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে টার্নিং পয়েন্টের নির্ভরযোগ্যতা আরও যাচাই করা যায়।
-
RSI, MACD-এর মতো অন্যান্য প্রযুক্তিগত সূচকের সহায়ক ভূমিকা পরীক্ষা করা। এই সূচকগুলি প্রবণতা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে এবং গড় টার্নিংয়ের সাথে মিলিত হয়ে কম্বিনেশন কৌশল তৈরি করতে পারে।
-
বিভিন্ন বাজার অবস্থার প্যারামিটার অপটিমাইজেশন স্ক্রীনিং। ষাঁড়ের বাজার, ভালুকের বাজার, ওঠানামার বাজারের জন্য আলাদাভাবে প্যারামিটার অপটিমাইজেশন কম্বিনেশন পরীক্ষা করা।
-
মেশিন লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ডাইনামিক প্যারামিটার অপটিমাইজেশন। প্রোগ্রামটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতিতে প্যারামিটারের স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন করতে দেওয়া, যাতে প্যারামিটারগুলির ডাইনামিক অপটিমাইজেশন সম্ভব হয়।
সারসংক্ষেপ
সামগ্রিকভাবে, এই কৌশলটি একটি অপেক্ষাকৃত পরিণত ট্রেন্ড-ফলোয়িং কৌশল, যা কিছুটা বাস্তবিক মূল্য রাখে। কৌশলটির চিন্তাভাবনা সহজ ও স্পষ্ট, প্যারামিটার সেটিং বেশি নয়, সহজে বোঝা ও পরীক্ষা করা যায়। তবে ট্রেন্ড অনুসরণে বিলম্বের মতো সমস্যাও আছে। অন্যান্য সূচকের সাথে সংযুক্ত করে ব্যবহার করা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ও অপটিমাইজ করা, অথবা ডাইনামিক প্যারামিটার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম প্রবর্তন করলে কৌশলটির স্থায়িত্ব ও বাস্তবিক সাফল্য আরও বাড়ানো সম্ভব।
- 1

