মুভিং অ্যাভারেজ বহুভুজ কৌশল
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুভিং এভারেজ পলিগন কৌশল হল একটি ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশল যা বিভিন্ন সময়কালের একাধিক মুভিং এভারেজ ব্যবহার করে একটি বহুভুজ (পলিগন) তৈরি করে এবং এই বহুভুজ ভেঙে যাওয়াকে ট্রেডিং সিগন্যাল হিসেবে ব্যবহার করে। এই কৌশলটি একাধিক সময়কালের ফ্যাক্টর বিবেচনা করে বাজারের শব্দ (noise) কার্যকরভাবে ফিল্টার করতে পারে এবং প্রধান ট্রেন্ডটি ধরতে পারে।
কৌশলের নীতি
এই কৌশলটি বিভিন্ন সময়ের EMA (এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ) ইনপুট করে, যেমন ৩-পিরিয়ড, ৭-পিরিয়ড এবং ১৩-পিরিয়ড EMA, সেগুলোকে প্রাইস চার্টে অঙ্কন করে একটি বহুভুজ চ্যানেল তৈরি করে। যখন মূল্য একাধিক EMA-কে উপর দিয়ে অতিক্রম করে, তখন লং সিগন্যাল তৈরি হয়; যখন মূল্য একাধিক EMA-কে নিচে দিয়ে অতিক্রম করে, তখন শর্ট সিগন্যাল তৈরি হয়। এতে অনেক ভুয়া ব্রেকআউট বাদ দেওয়া যায়।
কোডে, close>ema1 and ema1>ema2 and ema2>ema3 দিয়ে উপর দিয়ে অতিক্রমের সিগন্যাল নির্ধারণ করা হয়, এবং close<ema1 and ema1<ema2 and ema2<ema3 দিয়ে নিচে দিয়ে অতিক্রমের সিগন্যাল নির্ধারণ করা হয়। ক্রয়-বিক্রয় শর্তে time_cond সময় শর্ত যুক্ত করা হয় যাতে ব্যাকটেস্টিংয়ের পরিসর সীমিত থাকে। ক্রয়-বিক্রয় কার্য সম্পাদনের সময়, মুনাফা রক্ষার জন্য ট্রেইলিং স্টপ লস ব্যবহার করা হয়।
কৌশলের সুবিধা
এই কৌশলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি প্রধান ট্রেন্ড দিক কার্যকরভাবে ধরতে পারে, একাধিক মুভিং এভারেজের মাধ্যমে একটি ফিল্টারিং মেকানিজম তৈরি করে যা বাজারের স্বল্পমেয়াদী শব্দ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এড়াতে এবং ভুয়া সিগন্যাল কমাতে সহায়তা করে। ট্রেইলিং স্টপ লস সময়মতো লোকসান কাটার মাধ্যমে মুনাফা রক্ষা করে।
ঝুঁকি ও সমাধান
এই কৌশলের প্রধান ঝুঁকি হল এটি ট্রেন্ডের টার্নিং পয়েন্ট নির্ধারণ করতে পারে না, ফলে ট্রেন্ড রিভার্সালের সময় ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও, মুভিং এভারেজ কম্বিনেশনের ভুল সেটিংস অতিরিক্ত ট্রেডিং ফ্রিকোয়েন্সি বা সিগন্যালে বিলম্ব ঘটাতে পারে। ঝুঁকি কমানোর জন্য মুভিং এভারেজ প্যারামিটার কম্বিনেশন অপ্টিমাইজ করা, রিভার্সাল নির্ধারণের জন্য অন্যান্য ইন্ডিকেটর যুক্ত করা এবং স্টপ লসের পরিসর বাড়ানো ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
অপ্টিমাইজেশনের দিকনির্দেশনা
এই কৌশলটি নিম্নলিখিত দিক থেকে অপ্টিমাইজ করা যেতে পারে:
-
মুভিং এভারেজের সময়কাল প্যারামিটার অপ্টিমাইজ করে সর্বোত্তম প্যারামিটার কম্বিনেশন খুঁজে বের করা
-
ট্রেন্ড টার্নিং পয়েন্টে রিভার্সাল সিগন্যাল ইন্ডিকেটর যুক্ত করা, যেমন RSI, MACD ইত্যাদি, যাতে সময়মতো লোকসান কেটে বের হওয়া যায়
-
ট্রেইলিং স্টপ লসের স্টপ লস পরিমাণ ও অফসেট মান অপ্টিমাইজ করা, যাতে স্টপ লস ট্রিগার হওয়ার সম্ভাবনা কমানো যায়
-
বিভিন্ন পণ্যের প্যারামিটার অপ্টিমাইজ করে কৌশলের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানো
উপসংহার
মুভিং এভারেজ পলিগন কৌশলটি সামগ্রিকভাবে একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশল। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল প্রধান ট্রেন্ড দিক ধরা এবং একই সাথে ব্যাপকভাবে শব্দ ফিল্টার করা। তবে রিভার্সাল শনাক্তকরণে কিছু ঘাটতি রয়েছে। আমরা প্যারামিটার অপ্টিমাইজেশন, সহায়ক ইন্ডিকেটর যুক্ত করার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে কৌশলের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারি। এই কৌশলটি স্পষ্ট ট্রেন্ডযুক্ত পণ্যের জন্য উপযোগী; সঠিকভাবে ব্যবহার করলে স্থিতিশীল ট্রেডিং লাভ অর্জন করা যায়।
- 1

