গড় চলন ট্রেডিং কৌশল
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি চলমান গড় (Moving Average) সিস্টেম ব্যবহার করে বর্তমান ট্রেন্ডের দিক নির্ধারণ করে এবং সেই দিক অনুযায়ী লং বা শর্ট পজিশন নেয়। চলমান গড় উপরে উঠলে বুলিশ কনফিডেন্স বেশি বলে ধরে লং করা হয়; চলমান গড় নিচে নামলে বেয়ারিশ কনফিডেন্স বেশি বলে ধরে শর্ট করা হয়। এই কৌশলটি মূলত চলমান গড় সিস্টেমের মাধ্যমে বাজারের মুভমেন্টের দিক নির্ধারণ করে, ফলে এটি একটি ট্রেন্ড-ফলোয়িং কৌশল।
কৌশলের নীতি
-
একটি নির্দিষ্ট পিরিয়ডের (ডিফল্ট ৪০০ পিরিয়ড) ওয়েটেড মুভিং অ্যাভারেজ (VWMA) চলমান গড় সূচক হিসেবে গণনা করা হয়।
-
VWMA চলমান গড়টি উপরে উঠছে কিনা তা নির্ধারণ করা হয়; যদি উপরে উঠে তাহলে বুলিশ সিগনাল (uptrend) সেট করা হয়; যদি নিচে নামে তাহলে বেয়ারিশ সিগনাল (downtrend) সেট করা হয়।
-
uptrend সত্য হলে লং করা হয়; downtrend সত্য হলে শর্ট পজিশন বন্ধ করা হয় (অর্থাৎ লং পজিশন নেই)।
-
প্রতিটি ক্যান্ডেলের কৌশলগত রিটার্ন (bar_pnl) এবং বাই-অ্যান্ড-হোল্ড রিটার্ন (bar_bh) গণনা করা হয়।
-
কোয়ার্টার এবং ইয়ার ব্রেকপয়েন্ট অনুযায়ী, প্রতিটি কোয়ার্টার এবং ইয়ারের জন্য কৌশলগত রিটার্ন (quarter_pnl) এবং ইয়ারলি রিটার্ন (year_pnl) এবং সংশ্লিষ্ট বাই-অ্যান্ড-হোল্ড রিটার্ন (quarter_bh ও year_bh) গণনা করা হয়।
-
একটি টেবিলে প্রতিটি বছরের প্রতিটি কোয়ার্টারের কৌশলগত রিটার্ন এবং বাই-অ্যান্ড-হোল্ড রিটার্ন প্রদর্শন করা হয়।
কৌশলের সুবিধা বিশ্লেষণ
এই কৌশলটি মূলত চলমান গড়ের মাধ্যমে বাজারের ট্রেন্ডের দিক নির্ধারণ করে, যার নিম্নলিখিত সুবিধা রয়েছে:
-
অপারেশন সহজ – চলমান গড় সূচকের মাধ্যমে বাজারের দিক নির্ধারণ করা সহজে বোঝা ও ব্যবহার করা যায়।
-
ড্রডাউন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ভাল – ট্রেন্ড অনুসরণ করে কাজ করে, ফলে নন-ট্রেন্ডিং মার্কেটে ক্ষতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
-
কনফিগারেবল প্যারামিটার কম – মূলত চলমান গড় পিরিয়ড পরিবর্তন করাই যথেষ্ট, সহজে টেস্ট ও অপটিমাইজ করা যায়।
-
টেবিলের মাধ্যমে রিটার্নের ভিজুয়াল উপস্থাপনা – পরিষ্কার ও সহজবোধ্য।
-
রিটার্ন টেবিলে বাই-অ্যান্ড-হোল্ড রিটার্নের সাথে তুলনা দেওয়া থাকে, যা কৌশলের অতিরিক্ত রিটার্ন স্পষ্ট করে।
-
টেবিলের অবস্থান নমনীয়ভাবে সেট করা যায়, অন্যান্য কৌশলের সাথে কম্বিনেশন করে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
কৌশলের ঝুঁকি বিশ্লেষণ
এই কৌশলের কিছু ঝুঁকিও আছে:
-
বুল মার্কেটের ঝুঁকি – দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বাই-অ্যান্ড-হোল্ড কৌশলের তুলনায় রিটার্ন কিছুটা কম হতে পারে। চলমান গড় পিরিয়ড ঠিক করে অপটিমাইজ করা যায়।
-
রেঞ্জবাউন্ড মার্কেটে (ওয়াইপস) ঝুঁকি বেশি – পুনরাবৃত্তিমূলক লেনদেন কমাতে পূর্ববর্তী উচ্চতা ভাঙা ইত্যাদি ফিল্টার যোগ করার কথা ভাবা যায়।
-
চলমান গড় সিস্টেম কার্ভ ফিটিংয়ের জন্য ভাল না – ট্রেন্ড পরিবর্তনের পয়েন্ট মিস হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের চলমান গড় পরীক্ষা করা যেতে পারে।
-
স্টপ-লস না থাকায় বড় ড্রডাউনের ঝুঁকি – ডায়নামিক স্টপ-লস বা পজিশন সাইজ কমানোর কথা ভাবা যায়।
-
টেবিল অপটিমাইজেশনে শার্প রেশিও, সর্বোচ্চ ড্রডাউন ইত্যাদি ঝুঁকি সূচক যোগ করা যেতে পারে।
কৌশল অপটিমাইজেশনের দিকনির্দেশনা
এই কৌশলটি নিম্নলিখিত দিক থেকে অপটিমাইজ করা যেতে পারে:
-
চলমান গড় প্যারামিটার অপটিমাইজ করা – বিভিন্ন বাজার পরিবেশের জন্য চলমান গড় পিরিয়ড সমন্বয় করা।
-
ফিল্টার যোগ করা – যেমন পূর্ববর্তী উচ্চতা ভাঙা, যাতে ওয়াইপস কমে।
-
বিভিন্ন ধরনের চলমান গড় পরীক্ষা করা – যেমন ওয়েটেড মুভিং অ্যাভারেজ, ডাবল এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং অ্যাভারেজ ইত্যাদি।
-
স্টপ-লস মেকানিজম যোগ করা – ডায়নামিক স্টপ-লস সেট করা বা পজিশন সাইজ কমানো।
-
টেবিলের বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ করা – শার্প রেশিও, সর্বোচ্চ ড্রডাউন ইত্যাদি সূচক যোগ করা।
-
অন্যান্য সূচকের সাথে কম্বিনেশন – যেমন MACD, Bollinger Bands ইত্যাদি দিয়ে ট্রেন্ড নির্ধারণ।
-
পজিশন ম্যানেজমেন্ট অপটিমাইজ করা – বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডায়নামিক পজিশন সাইজ।
-
বিভিন্ন সিম্বলের উপর টেস্ট করে সবচেয়ে ভালো প্রযোজ্যতা খুঁজে বের করা।
সারসংক্ষেপ
এই চলমান গড় ট্রেডিং কৌশলটি সামগ্রিকভাবে সহজ ও সরল; চলমান গড়ের মাধ্যমে ট্রেন্ড নির্ধারণ করে কাজ করে, ড্রডাউন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ভালো, ট্রেন্ড-ফলোয়িং ট্রেডারদের জন্য উপযোগী। অপটিমাইজেশনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে – চলমান গড় সিস্টেম, স্টপ-লস মেকানিজম, পজিশন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি থেকে অপটিমাইজ করে কৌশলটিকে জটিল বাজার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো যায়। টেবিল ডিজাইনের মাধ্যমে কৌশলের রিটার্ন ও বাই-অ্যান্ড-হোল্ড রিটার্নের তুলনা দেখানো হয়, যা কৌশলের অতিরিক্ত মূল্য পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলে। এই কৌশলের কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক ও টেবিল উপস্থাপনার ধারণা কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডারদের জন্য কিছুটা অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
- 1

