সংকোচিত গতিবেগ নির্দেশকের উপর ভিত্তি করে ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশল
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
এই কৌশলটি LazyBear-এর কম্প্রেশন মোমেন্টাম ইন্ডিকেটরের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বলিঙ্গার ব্যান্ড এবং কেল্টনার চ্যানেলের সাথে মিলিত হয়ে মূল্যের চ্যানেল ভেঙে কম্প্রেশন ও এক্সপ্যানশন প্যাটার্ন শনাক্ত করে। এর মাধ্যমে শেয়ারের মূল্যের সম্ভাব্য ট্রেন্ড দিক নির্ধারণ করা হয় এবং ট্রেন্ড ফলো করার পদ্ধতি ব্যবহার করে পজিশন খোলার দিক নির্ধারণ করা হয়। কৌশলটির সুবিধা হলো এটি মোমেন্টাম ইন্ডিকেটরের সম্ভাব্য ট্রেন্ড শনাক্ত করার ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং ট্রেডিং সিগন্যালের গুণমান নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক ফিল্টার শর্ত নির্ধারণ করে। এতে অনিশ্চিত ট্রেড সিগন্যাল ফিল্টার করা সম্ভব হয় এবং ওঠানামার সময়ে অতিরিক্ত ট্রেডিং এড়ানো যায়।
কৌশলের নীতি
-
বলিঙ্গার ব্যান্ডের মধ্যম রেখা, উপরের রেখা ও নিচের রেখা গণনা করা হয়। মধ্যম রেখা হলো n দিনের ক্লোজিং প্রাইসের সরল মুভিং এভারেজ, আর উপরের ও নিচের রেখা হলো মধ্যম রেখার সাথে n দিনের ক্লোজিং প্রাইসের স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের m গুণ যোগ ও বিয়োগ করে পাওয়া হয়।
-
কেল্টনার চ্যানেলের মধ্যম রেখা, উপরের রেখা ও নিচের রেখা গণনা করা হয়। মধ্যম রেখা হলো n দিনের ক্লোজিং প্রাইসের সরল মুভিং এভারেজ, আর উপরের ও নিচের রেখা হলো মধ্যম রেখার সাথে n দিনের ট্রু রেঞ্জের সরল মুভিং এভারেজের m গুণ যোগ ও বিয়োগ করে পাওয়া হয়।
-
মূল্য বলিঙ্গার ব্যান্ড ও কেল্টনার চ্যানেলের উপরের ও নিচের রেখা ভেঙে কম্প্রেশন ও এক্সপ্যানশন প্যাটার্ন গঠন করছে কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। যখন মূল্য উপরের দিক থেকে নিচের রেখা ভেঙে যায়, তখন তা কম্প্রেশন প্যাটার্ন; আর যখন মূল্য নিচের দিক থেকে উপরের রেখা ভেঙে যায়, তখন তা এক্সপ্যানশন প্যাটার্ন।
-
লিনিয়ার রিগ্রেশন কার্ভের মান গণনা করা হয়, যা মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে। যখন মোমেন্টাম লাইন ০ এর উপরে উঠে যায়, তখন তা ক্রয় সংকেত; আর যখন ০ এর নিচে নামে, তখন তা বিক্রয় সংকেত।
-
কম্প্রেশন/এক্সপ্যানশন প্যাটার্ন, মোমেন্টাম ইন্ডিকেটরের দিক, গড় ফিল্টার ইত্যাদি একাধিক শর্ত একত্রিত করে চূড়ান্ত ট্রেড সিগন্যাল নির্ধারণ করা হয়। সমস্ত শর্ত পূরণ হলেই ট্রেড সিগন্যাল তৈরি হয়, যা ভুল ট্রেডিং এড়ায়।
কৌশলের সুবিধা
-
বলিঙ্গার ব্যান্ড ও কেল্টনার চ্যানেলের দ্বৈত ফিল্টার ব্যবহার করে উচ্চমানের কম্প্রেশন ও এক্সপ্যানশন প্যাটার্ন শনাক্ত করা যায়।
-
মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর সময়মতো মূল্যের ট্রেন্ড বিপরীতমুখী হওয়া শনাক্ত করতে সক্ষম, যা চ্যানেল ইন্ডিকেটরের সাথে পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
-
আগেভাগে পজিশনে প্রবেশের সুযোগ থাকে, যা লাভের সম্ভাবনা বাড়ায়।
-
একাধিক শর্ত ব্যবহার করে ওঠানামার বাজারে ঘন ঘন পজিশন খোলা এড়ানো যায়।
-
প্রযুক্তিগত সূচকগুলোর প্যারামিটার কাস্টমাইজ করা যায়, যা বিভিন্ন সম্পদ ও প্যারামিটার কম্বিনেশনের জন্য উপযোগী।
-
ব্যাকটেস্টিংয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়, নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য অপ্টিমাইজেশন পরীক্ষা করা সম্ভব।
কৌশলের ঝুঁকি
-
ট্রেন্ড ফলো করার কৌশল হওয়ায়, ট্রেন্ড বিপরীতমুখী হলে ক্ষতি হতে পারে।
-
প্যারামিটার ভুলভাবে সেট করলে ট্রেডিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি বেশি বা সিগন্যালের গুণমান খারাপ হতে পারে।
-
ঐতিহাসিক তথ্যের উপর নির্ভর করে পরীক্ষা করা হয়, ভবিষ্যতে ধারাবাহিক রিটার্নের নিশ্চয়তা নেই।
-
অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে বাজারের ওঠানামা ও মূল্যের তীব্র পরিবর্তন মোকাবিলা করতে পারে না।
-
ব্যাকটেস্টিং টাইম উইন্ডো ভুলভাবে সেট করলে ওভারফিটিং হতে পারে।
কৌশলের অপ্টিমাইজেশনের দিক
-
বলিঙ্গার ব্যান্ড ও কেল্টনার চ্যানেলের প্যারামিটার অপ্টিমাইজ করে সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করা।
-
ট্রেলিং স্টপ লস যুক্ত করে প্রতিটি ট্রেডের সর্বোচ্চ ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা করা।
-
নির্দিষ্ট সম্পদ, সময়কাল ও প্যারামিটার কম্বিনেশনের জন্য আরও অপ্টিমাইজেশনের চেষ্টা করা।
-
ট্রেন্ড বিপরীতমুখী হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য মেশিন লার্নিং মডেল যুক্ত করার সম্ভাবনা অন্বেষণ।
-
ভিন্ন ভিন্ন এন্ট্রি অর্ডার ও পজিশন ম্যানেজমেন্ট কৌশল পরীক্ষা করা।
-
ট্রেন্ড বিপরীতমুখী হওয়ার সংকেত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক স্টপ লস দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা।
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি একাধিক প্রযুক্তিগত সূচক একত্রিত করে মূল্যের ট্রেন্ড দিক নির্ধারণ করে এবং ট্রেন্ড ফলো করে, যা বেশ অভিযোজনযোগ্য। প্যারামিটার কাস্টমাইজেশন ও একাধিক শর্ত ফিল্টার ব্যবহার করে ট্রেডিংয়ের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যালের গুণমান বাড়ানো সম্ভব। তবে বিপরীতমুখী ট্রেড ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ট্রেন্ড বিপরীতমুখী হওয়ার সংকেত ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অপ্টিমাইজেশন চালিয়ে কৌশলটিকে আরও স্থিতিশীল করা যেতে পারে।
- 1

