নিয়মিত বিনিয়োগ Golden ট্রেন্ড অনুসরণ কৌশল
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি মুভিং এভারেজ মডেল ব্যবহার করে বাজারের ট্রেন্ডের দিক নির্ণয় করে। বুলিশ ট্রেন্ডে নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে লং পজিশন খোলা হয়, যাতে গোল্ডেন ক্রসের ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড অনুসরণ করা যায়।
কৌশলের নীতি
কৌশলটি মূলত নিম্নলিখিত প্রযুক্তিগত নীতির উপর ভিত্তি করে:
-
ইএমএ (EMA) মুভিং এভারেজ ব্যবহার করে বাজারের ট্রেন্ডের দিক নির্ণয় করা হয়। যখন দ্রুত ইএমএ লাইন ধীর ইএমএ লাইনের উপরে উঠে যায় (গোল্ডেন ক্রস), তখন বুলিশ ট্রেন্ড ধরে নেওয়া হয় এবং লং পজিশনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
-
এমএসিডি (MACD) সূচকের সাথে মিলিয়ে প্রবেশের সময় নির্ধারণ করা হয়। যখন এমএসিডি সূচক পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয় (অর্থাৎ কেনার চাপ কমতে শুরু করে), তখন লং পজিশনে প্রবেশ করা হয়।
-
প্রতি মাসে কেবল একবার প্রবেশের সীমা নির্ধারণ করা হয়, যাতে উচ্চ মূল্যে কেনা এবং কম মূল্যে বিক্রি করা এড়ানো যায়। প্রতিবার প্রবেশের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়।
-
শুরু এবং শেষ তারিখ নির্ধারণ করা যায়, যা ব্যাকটেস্টের সময়কাল সীমিত করে। ব্যাকটেস্ট শেষ হলে কৌশলটি সমস্ত পজিশন বন্ধ করে দেয়।
বিস্তারিতভাবে, কৌশলটি প্রথমে দ্রুত ইএমএ লাইন এবং ধীর ইএমএ লাইন গণনা করে এবং তাদের গোল্ডেন ক্রস সম্পর্ক পরীক্ষা করে বাজারের ট্রেন্ড নির্ণয় করে। একইসাথে এমএসিডি সূচক গণনা করে নির্দিষ্ট প্রবেশ বিন্দু নির্ধারণ করে। যখন উভয় শর্ত পূরণ হয়, তখন লং সিগন্যাল তৈরি হয় এবং প্রতি মাসে কেবল একবার প্রবেশের সীমা অনুযায়ী প্রকৃত প্রবেশ আদেশ জারি করা হয়। প্রতিবার প্রবেশের জন্য পূর্বনির্ধারিত অর্থের পরিমাণ ব্যবহার করা যায়। ব্যাকটেস্ট শেষ হলে কৌশলটি সক্রিয়ভাবে সমস্ত পজিশন বন্ধ করে দেয়।
কৌশলের সুবিধা
এটি একটি অপেক্ষাকৃত সহজ এবং সরাসরি ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশল, যার নিম্নলিখিত সুবিধা রয়েছে:
-
ইএমএ মুভিং এভারেজ ব্যবহার করে বড় ট্রেন্ডের দিক নির্ণয় করা সহজ এবং কার্যকর। ইএমএ মূল্যের পরিবর্তনে কিছুটা মসৃণতা এনে দেয়, যা অস্থির বাজারের শব্দ কমাতে সাহায্য করে।
-
এমএসিডি সূচক অপেক্ষাকৃত নির্ভুলভাবে কেনার কাঠামো দুর্বল হওয়ার সময় নির্ধারণ করতে পারে, ফলে প্রবেশের ঝুঁকি কম হয়।
-
প্রতি মাসে কেবল একবার ট্রেন্ড অনুসরণে কেনার সীমা বুলিশ বাজারে উচ্চ মূল্যে কেনা এবং কম মূল্যে বিক্রি এড়াতে সাহায্য করে।
-
ব্যবহারকারী প্রতি মাসে প্রবেশের অর্থের পরিমাণ কাস্টমাইজ করতে পারেন, যা নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী পজিশনের আকার নমনীয়ভাবে সামঞ্জস্য করতে দেয়।
-
শুরু এবং শেষ তারিখ নির্ধারণ করে ব্যাকটেস্ট চালানো যায় এবং কৌশলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায়।
-
ব্যাকটেস্ট শেষ হলে সক্রিয়ভাবে পজিশন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা সিমুলেটেড ট্রেডিং থেকে বের হওয়ার সময় পজিশন ধরে রাখার অসুবিধা এড়ায়।
ঝুঁকি ও প্রতিকার
কৌশলটির কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানগুলি হল:
-
মুভিং এভারেজের উপর নির্ভর করে ট্রেন্ড নির্ণয়ের পদ্ধতি স্বল্পমেয়াদী সমন্বয়ে সুযোগ হাতছাড়া করতে পারে বা ট্রেন্ড বিপরীত হলে পর্যাপ্ত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না। মুভিং এভারেজের সময়কাল সংক্ষিপ্ত করে বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত সূচক যোগ করে অপ্টিমাইজ করা যেতে পারে।
-
প্রতি মাসে কেবল একবার ট্রেন্ড অনুসরণে কেনা ভালো প্রবেশ বিন্দু মিস করতে পারে। প্রবেশের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো বা নতুন উচ্চতায় পৌঁছালে আবার কেনার শর্ত যোগ করা যেতে পারে।
-
ব্যাকটেস্ট ফিটিংয়ের কিছু ঝুঁকি রয়েছে। প্যারামিটার অ্যাডজাস্টমেন্টের স্থান বাড়ানো এবং বিভিন্ন বাজার ও সময়কাল জুড়ে দৃঢ়তা পরীক্ষা করা উচিত।
-
উচ্চ মূল্যে কেনা ও কম মূল্যে বিক্রি করার ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত কেনার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতি মাসে প্রবেশের অর্থের পরিমাণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, যাতে পজিশন খুব বেশি বড় না হয়।
অপ্টিমাইজেশনের দিকনির্দেশনা
এই ডলার-কস্ট এভারেজিং ও ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশলটি নিম্নলিখিত দিক থেকে সম্প্রসারণ ও অপ্টিমাইজ করা যেতে পারে:
-
স্টপ লস এক্সিট লজিক যোগ করা, যাতে বাজার স্পষ্টভাবে বিয়ারিশ হলে সক্রিয়ভাবে লোকসান কাটা যায়।
-
এমএসিডি স্মাইল নিয়ম (ম্যাকডি স্মাইল ক্রাইটেরিয়া) পূরণ হলে আরও একটি ক্রয় যোগ করা, যাতে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডের পূর্ণতা লাভ করা যায়।
-
চলতি মাসের নতুন উচ্চতা পূর্ববর্তী মাসের নতুন উচ্চতার সাথে তুলনা করে বুলিশ ও বিয়ারিশ শক্তির বিচার করা, এবং ট্রেন্ড এখনও শক্তিশালী কিনা তা মূল্যায়ন করা।
-
পজিশন নিয়ন্ত্রণের লজিক যোগ করা। প্রতি মাসে প্রবেশের অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট মানের পরিবর্তে অনুপাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
-
বিভিন্ন মুভিং এভারেজ কম্বিনেশন এবং এমএসিডি প্যারামিটার কৌশলের প্রভাব মূল্যায়ন করা। সর্বোত্তম প্যারামিটার কম্বিনেশন খুঁজে বের করা।
-
একটি ট্রেলিং স্টপ লস যোগ করা। দাম একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছালে নির্দিষ্ট পরিমাণে অনুসরণ করে লোকসান সীমাবদ্ধ করা, যাতে মুনাফা চলতে থাকে।
সারসংক্ষেপ
এই কৌশলটি একটি সহজ ট্রেন্ড ফলোয়িং কৌশল, যার মূল ধারণা পরিষ্কার, বাস্তবায়ন সহজ, এবং মুভিং এভারেজ ট্রেন্ড ফলোয়িং ও ডলার-কস্ট এভারেজিংয়ের সমন্বয় পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত। এটি কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিংয়ের জন্য একটি প্রাথমিক কৌশল হিসেবে শেখা যেতে পারে। তবে বাস্তব ট্রেডিংয়ে পজিশনের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কৌশলটিকে অপ্টিমাইজ করে জটিল বাজার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো প্রয়োজন।
- 1

